অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পাঁয়তারাকারী চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ১৫:১১
অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পাঁয়তারাকারী চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

আদালত সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বই প্রকাশ করে দেশে অরাজক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পাঁয়তারা করছিল একটি চক্র। তবে ওই চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব।


বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এমনটাই জানিয়েছেন র‌্যাব ১০’এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ কাইয়ুমুজ্জামান খান।


তিনি বলেন, সাম্প্রতি ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন ভঙ্গকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন-শৃংখলা তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপরও অসাধু ব্যবসায়ী, সুবিধাবাদী গোষ্ঠী আইনি বিধান লঙ্ঘন করে পুস্তক প্রকাশ করে যাচ্ছে। এ অপরাধে গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজধানী থেকে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।


আটকরা হলো আবদুর রহমান নূর রাজন ওরফে রাজন বেপারী (৩২) ও মেহেদী আরজান ইভান (৩৭)। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্ত্বর এসএ পরিবহন থেকে রাজনকে আটক করা হয়। পরে রাত ১১টার দিকে মিরপুর ছয় নম্বরের একটি বাসা থেকে ইভানকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৪৮৫টি বই জব্দ করা হয়েছে।



কাইয়ুমুজ্জামান খান বলেন, রাজধানীর মিরপুরের দুইজন বাসিন্দা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তথ্য গোপন করে আদালত সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে সিলেটের একটি ছাপাখানায় একটি বই প্রকাশ করে। তবে বইটি প্রকাশ করার আগে আদালত বা যথাযথ কতৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে মিথ্যা, বিকৃত ও অসত্য তথ্য সংযুক্ত করে বইটি প্রকাশ করা হয়। পরে বইটি ঢাকা এনে বাজারজাত করার জন্য এসএ পরিবহনে নিয়ে আসা হয়।


তিনি জানান, মিরপুর ১০নং গোলচত্বরের এসএ পরিবহণ থেকে পাঁচটি বড় কার্টন ভর্তি বইয়ের পার্সেল গ্রহণ করা সময় রাজন বেপারীকে আটক করা হয়। বইগুলো আইন মেনে ছাপা হয়নি বলেও জানায় রাজন। পরে তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাবাদ করা হয়। এ সময় রাজন তার আরো কয়েকজন সহযোগীর নাম বলে। তারা হলো- রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা মেহেদী আরজান ইভান, তেবগাঁওয়ের বাসিন্দা ওয়াসিম ইফতেখারুল হক, শিপন মোল্লা, বৈরাম খাঁ ওরফে রেজওয়ানুল হক শোভন ও সিলেট নগরীর কাজী জালাল উদ্দিন রোডের অন্তরঙ্গ ৬০’র বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুর রব চৌধুরী। পরবর্তীতে ইভানকে আটক করা হয়। বাকিদের আটক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


র‌্যাব ১০’এর অধিনায়ক জানান, আদালতে বিচারাধীন একটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ এক আসামির জবানবন্দি, মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করে তারা। পরে সুশীল সমাজের কতিপয় ব্যক্তির মন্তব্য সন্নিবেশ করে তা গোপনে প্রকাশ করে।



আটকরা মূলত অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ও সাইবার অ্যানালিস্ট জানিয়ে কাইয়ুমুজ্জামান বলেন, রাজনের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ থেকে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে উস্কানির বিভিন্ন পোস্ট পাওয়া গেছে।


তিনি বলেন, আটকদের উদ্দেশ্য ছিল বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্বলিত পুস্তক গোপনে প্রকাশ করে আদালতকে বিব্রত করা এবং জনমনে আদালত সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানো। তারা সমাজের সহজ সরল ব্যক্তিদের মধ্যে পুস্তকটি সরবরাহ করে আদালত সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে অরাজক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরীর পাঁয়তারা করছিল।


বিবার্তা/খলিল/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com