পণ্ডিতের ব্যাখ্যা আর একজন ‘সৎমা’!
প্রকাশ : ৩০ মে ২০১৭, ১০:৫৭
পণ্ডিতের ব্যাখ্যা আর একজন ‘সৎমা’!
জিয়াউদ্দিন সাইমুম
প্রিন্ট অ-অ+

সংস্কৃত সৎ শব্দের মূলে রয়েছে ‘অস্’ ধাতু। সৎ শব্দটি বিশ্লিষ্ট করলে দাঁড়ায় (অস + অৎ (শতৃ)। বিশেষ্যে সৎ মানে অস্তিত্ব, নিত্যতা (একমাত্র ভৌতিক ভাত খেয়ে মানুষ তার সৎ রক্ষা করতে পারলেও তার চিৎ ও আনন্দ রক্ষা করতে পারে না- প্রমথ চৌধুরী)।


বিশেষণে সৎ মানে সত্তাযুক্ত, সত্য, শুভ, সাধু (এই সকল তীক্ষ্মনাসিকা ক্ষুরোজ্জ্বলচ ক্ষুধারালো ‘পেঁচালো’- বুদ্ধিগণ তিল হইতে তাল, সামান্য হইতে অসামান্য, সৎ হইতে অসৎ আবিষ্কার করিয়া সদনুষ্ঠানের প্রাণে বাঁকা কটাক্ষপাত করিয়া তাহার চোখ দিয়া জল তাহার বুক দিয়া রক্ত বাহির করিয়া দেন- বিজ্ঞতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; অস্ ধাতু হইতে সৎ শব্দ হইয়াছে, যাহা থাকিবে, তাহাই সৎ; যাহা নাই বা থাকিবে না, তাহাই অসৎ- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; শুধু সৎ এবং উচ্চ দেখিয়া কাহাকে বিবাহ করিয়া সুখী হইয়ো; এরূপ ধনসম্পত্তি লইয়া অরক্ষিতা অবস্থায় বেশি দিন থাকিয়ো না- কোরেল, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; কোথায় সে যদুপতি, কোথা মথুরার গতি, অথ, চিন্তা করি ইতি কুরু মনস্থির মায়াময় এ জগৎ নহে সৎ নহে সৎ, যেন পদ্মপত্রবৎ, তদুপরি নীর- শ্রাবণের পত্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর), বিদ্বান।


সংস্কৃত সপত্নী থেকেও বাংলায় সৎ শব্দটি এসেছে। এ সৎ অর্থ সতিন সম্পর্কিত (ঘরে সৎমা, তার কপালে দুর্ভোগের শেষ নেই; বলি তোর সৎমা আবাগী ভাত দিতে পারলে না যে এখানে এসেছিস হাঙ্গামা করতে?- মামলার ফল, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)।


প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, মধ্যযুগে ‘সৎ মা’-কে লেখা হতো ‘সাৎ মা’। বর পাইলা তুক্ষি সাত মা-এর পাস- শেখ ফয়জুল্লাহ।


মজার ব্যাপার হচ্ছে ‘সৎ’ অর্থ ভালো, সুতরাং ‘সৎমা’ অর্থ হওয়া উচিত ‘ভালো যে মা’। কিন্তু সৎমায়ের মতো নিষ্ঠুর আর কেউ কী আছে? সৎমায়ের নৃশংসতার কতো করুণ কাহিনি প্রত্যহ আমাদের শুনতে হয়, অনেককে দেখতে হয়, কাউকে কাউকে ভুগতেও হয়।


সংস্কৃত সপত্নী থেকে ‘সতিন’ এবং সতিন থেকে ‘সৎ’ এসেছে। এ ‘সৎ’ এর সঙ্গে ‘মা’ যুক্ত হয়ে গঠিত হয়ছে সৎমা। মূলত সতীনের ‘সৎ’ থেকে ‘সৎমা’ শব্দের উৎপত্তি। তাই ‘সৎমা’ শব্দের ‘সৎ’ ভালো ‘সৎ’ নয়; সতিন সৎ।


অনেকে মঞ্জুভাষণ হিসেবেও অনেকে ‘সৎমা’ শব্দের ব্যুৎপত্তি বিশ্লেষণ করে থাকেন। জনৈক পণ্ডিতের স্ত্রী মারা যায়। সন্তানের লালনপালনের জন্য পণ্ডিত নতুনবউ ঘরে তুলতে বাধ্য হন। বিয়ের পূর্বে নতুন বউকে কথা দিতে হয়েছিল তিনি সততার সঙ্গে এবং সৎ থেকে পণ্ডিতের সন্তানদের লালনপালন করবেন।


পণ্ডিতের বাড়ি আসে নতুনবউ। অনেকে জানতে চাইতেন ‘এ কোন ধরনের মা?’ পণ্ডিত বলতেন ‘সৎমা’। খুশি হতেন পণ্ডিতের নতুন বউ। এখনও এরূপ কথা দিয়ে-নিয়ে অনেকে নিজের ‘নতুন বউ’ ও ‘সন্তানের সৎমা’ ঘরে আনেন।


লেখাটি লেখকের ব্লগ থেকে নেয়া


বিবার্তা/জিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com