শখের ফটোগ্রাফি এখন পেশা-মম মোস্তফার
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২২, ১০:৪৬
শখের ফটোগ্রাফি এখন পেশা-মম মোস্তফার
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

ছোটবেলা থেকেই খুব সুন্দর পিয়ানো বাজাতেন। নাচ করতেন। গিটারও শিখেছেন। কোনটাতেই আগ্রহ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। একদিন পাবলিক বাসে চড়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন। দেখেন বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে একজন লোক বাতাস খেতে খেতে যাচ্ছেন। তখন তার মনে হলো, ওয়াও! কী মজা! লোকটা বাতাস খেতে খেতে যাচ্ছেন, আবার তাকে ভাড়াও দিতে হচ্ছে না। বিষয়টা তো দারুণ! তাহলে আমিও বাসের হেল্পার হবো। কলেজে পড়ার সময় ভাবতেন বিমান বালা হয়ে আকাশে উড়বেন। বিশ্বের নানা দেশে ঘুরবেন। অন্যদিকে, সময় পেলেই ফুজি সাইবার শট ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি ‍তুলতেন। ছবি তুলতে ভীষণ ভালো লাগতো। সময়ের পালাক্রমে ফটোগ্রাফিতেই মন আটকে যায় তার। প্রথমে শখ, পরে নেশা। এখন সেটি পরিণত হয়েছে পেশায়। কীভাবে হলো সেটি? সেই গল্প বিবার্তাকে শুনিয়েছেন অদম্য ও আত্মপ্রত্যয়ী ফটোগ্রাফার মম মোস্তফা।


মম মোস্তফার জন্ম খুলনায়। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। বাবা গোলাম মোস্তফা ছিলেন সরকারি চাকুরে। বাবা এখন অবসরে। মা মনোয়ারা বেগম গৃহিণী। এক ভাই, দুই বোনের মধ্যে মম ছোট। ভাই ব্যবসায়ী, বোন গৃহিণী।


বাবার পুলিশের চাকরি। বদলি হতে হয় নতুন নতুন কর্মস্থলে। নতুন জায়গায় গিয়ে স্কুলে ভর্তি হলেও বাবার সাথে আবার যেতে হয় নতুন কোনো গন্তব্যে। কখনো রংপুর, খুলনায়, আবার কখনোবা চট্টগ্রামে। কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মম ঘুরে বেড়িয়েছেন বাবার চাকরির সুবাদে- শহরের অলিগলি, গ্রামের মেঠো পথ-প্রান্তরে।


এক জেলা থেকে অন্য জেলা- এভাবে ঘুরে ঘুরে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও ব্যবসা বিভাগ থেকে এইচএসসি পাশ করেন মম। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন জেলায় ঘোরাঘুরির ফলে ভ্রমণের প্রতি একটা আলাদা ভালোলাগা তৈরি হয়। সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা রুপসী বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য্যের প্রতি নিবিড় টান অনুভব করতে থাকেন। তখন ভাবেন কী করে এই ঘুরে বেড়ানোটাকে পেশা হিসেবে নিয়ে প্রকৃতির কাছে, মানুষের মাঝে থাকা যায়।